সুশীলদের ফাঁদে আওয়ামী লীগ?

সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষ হচ্ছে। আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাধাদান এবং সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এটা করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলেছে যে, তারা সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলো, এ কারণেই বাধা দেয়া হয়েছে।

কিন্তু যার বক্তব্যই সঠিক হোক না কেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি একটি অশনি সংকেতের ইঙ্গিত হিসেবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত কিছুদিন ধরেই বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ হচ্ছে। কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে এই সহিংসতার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এর আগে ভোলাতে সহিংসতা হয়েছিলো এবং সেখানে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছিলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত কয়েকটি অনুষ্ঠানেই বলেছেন যে, বিরোধী দল যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চায় তাহলে তাদেরকে স্বাগত জানানো হবে এবং এই আন্দোলনে যেন বাধা না দেওয়া হয় সেই নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা অতি উৎসাহীরা খুব একটা মানছেনা। প্রধানমন্ত্রী যখন এরকম বক্তব্য দিচ্ছেন তখন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল অনেক নেতা খেলা হবে বলে বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছেন। বিএনপিকে দেখে নেয়ার ঘোষণাও দিচ্ছেন কোনো কোনো আওয়ামী লীগ নেতা। এর প্রতিফলন ঘটছে মাঠ পর্যায়ে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, সুশীল সমাজ এটিই চাচ্ছে। বিএনপিকে মারমুখী করে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করার যে নীলনকশা সে নীলনকশার ফাঁদে আওয়ামী লীগ পা দিচ্ছে কিনা সেটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশে যতগুলো রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিলো এবং এই সংকটের পেক্ষাপটে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তার প্রত্যেকটি সৃষ্টির পিছনে সুশীলদের এরকম নীলনকশা ছিল। দেখা গেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত লাগিয়ে তারা একটি পটভূমি তৈরি করে। ১৯৭৫ সালে জাসদ এবং গণবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘাত লাগানো হয়েছিলো এবং তারপর খুনি মোশতাক এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সহিংসতাকে উস্কে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সহিংসতার সিঁড়ি দিয়েই সুশীল সমাজ ক্ষমতায় আরোহণ করেছিলো। এখনও সুশীল সমাজ সেরকম একটি প্রেক্ষাপট রচনা চেষ্টা করছে। সুশীলদের পক্ষ থেকে বারবার দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মানবাধিকার নিয়ে এক ধরনের মায়াকান্নাও দৃশ্যমান। এরকম পরিস্থিতিতে সুশীল সমাজ চাইছে একটি উত্তপ্ত সহিংস জ্বালাও-পোড়াও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যাতে জনগণ অস্বস্তিতে পড়ে এবং বিরক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত জনগণ একটি অনির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানাতে বাধ্য হয়।

সেরকম একটি প্রেক্ষাপট রচনা করার জন্যই এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির সহিংসতার ঘটনা ঘটছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দেখা দরকার বলে কেউ কেউ মনে করছেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রী যেখানে আওয়ামী লীগকে সতর্ক থাকা এবং বিরোধীদলের আন্দোলনে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে অতি উৎসাহীরা কেন কোথাও কোথাও গায়ে পড়ে বিরোধ বাঁধাচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার জন্য।

সেখানে কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী অসহিষ্ণু আচরণ করছে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করা খুবই জরুরি। কারণ, যদি রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সবচেয়ে লাভ হবে সুশীল সমাজের। অন্যদিকে এই সহিংসতা থেকে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারবে না। বিএনপিকে ইতিমধ্যে সুশীল সমাজ মগজধোলাই করেছে। এই কারণে বিএনপি এখন রাজপথে মারমুখী আচরণ করছে। আওয়ামী লীগকে এটা বুঝতে হবে এবং রাজনৈতিক আন্দোলনকে যেন সহিংসতায় রূপ নেয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে সামনে একটা বড় ধরনের রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অনেকে মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *