আগেই পরিবারের অর্ধেককে ঢাকা ছাড়ার পরামর্শ

প্রতিবছর ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে গ্রামে ছুটে যান লাখ লাখ মানুষ। তীব্র যানজট আর সড়কে ঝক্কি-ঝামেলায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় মানুষকে। এই ভোগান্তি এড়াতে পরিবারের কিছু সদস্যকে আগে-ভাগেই ঢাকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন বুয়েটের অধ্যক্ষ ও দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড. মোহম্মদ হাদিউজ্জামান।

রবিবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ লোক ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ১৫ লাখ মানুষের।’

তাই ঈদে গণপরিবহনে চাপ কমাতে পরিবারের যাদের ঢাকায় বিশেষ কোনও কাজ থাকবে না তাদের ২০ রোজার পরপরই, আর বাকি যাদের অফিস এবং অনান্য কাজ রয়েছে তাদের ২৭ রোজার মধ্যে ঢাকা ছাড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মোহম্মদ হাদিউজ্জামান বলেন, ঈদে গড়ে প্রতিদিন ৩০ লাখ যাত্রীর মধ্যে বাসে ৮ লাখ, ট্রেনে ১ লাখ, লঞ্চে দেড় লক্ষ, ব্যক্তিগত গাড়িতে চার লাখ ও বাইক রাইড করে চার লাখ লোক ঢাকা ছাড়বেন। বাকি ১৫ লাখ লোক ঝুঁকি নিয়ে কভার্ড ভ্যান, টেনের ছাদেসহ বিভিন্ন উপায়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

আমাদের স্কুল-কলেজগুলো ২০ রোজার পর বন্ধ হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিবারের কিছু সদস্য আগেই গ্রামের উদ্দেশে যেতে পারি। অফিসের জন্য যারা ২৭ রোজার আগে যেতে পারছি না, তারা পরে পৌঁছালেও যাতায়াতে ঝুঁকি এবং চাপ কম পড়বে।’

এবারের ঈদে সড়কের ব্যবস্থাপনা ‘কোমায় চলে যাওয়া’র আশঙ্কা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যখন সড়কের চাপ তিন থেকে চার গুণ হয়ে যাবে তখন ব্যবস্থাপনা কোনও কাজে আসবে না।

তাই ঈদের আগে ও পরে যে আট দিন ছুটি রয়েছে এর মধ্যেই একটা উল্লেখ্যযোগ্য ব্যবস্থাপনা গ্রহন করতে হবে। এর মধ্যে গনপরিবহন গুলো যেন তাদের সক্ষমতার বাহিরে অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি না করে সেদিক লক্ষ্য রাখতে হবে। তা না হলে পরিবহন চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত ট্রিপ দেওয়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়; যা সড়কে দুর্ঘটনা বাড়াবে।’

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে যে তীব্র যানজট, পথে পথে যাত্রী হয়রানী, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এবারের ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি বাড়বে।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুর বলেন, করোনা সংক্রমণ কমে আসায় এবারের ঈদে প্রায় দ্বিগুণ মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটির বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবে। এছাড়াও এক জেলা থেকে অপর জেলায় আরো প্রায় ৫ কোটি মানুষ যাতায়াত করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির অন্যান্য সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *