১০০ আসনে লাল বাতি, ৭৭ টিতে হলুদ বাতি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ এখনই নানা রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সারাদেশে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জরিপ চলছে। যারাই দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড করছে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তাদের দলীয় বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বরিশাল ৪ আসনের নেতা পংকজ দেবনাথকে। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, সারাদেশে ১০০ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান নির্বাচিত এমপিদের অবস্থা নড়বড়ে।

তাদের জন্য লালবার্তা ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। এরকম অন্তত ১০০ জন এমপি জানেন যে, আগামী নির্বাচনে তারা মনোনয়ন পাচ্ছেন না। তারপরও তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন আগামী এক বছরের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি এই শতাধিক প্রার্থীকে ইতিমধ্যে তার এলাকার অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তাদের যে এলাকায় জনপ্রিয়তা তলানিতে এবং জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এই বার্তাটি তারা ইতোমধ্যেই পেয়ে গেছেন।

তাদের জন্য এটা লালবাতি। এরকম ১০০ জন বর্তমান এমপি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এদের অনেকেই নিজেদেরকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে গুটিয়েও নিয়েছেন।

কেউ কেউ এলাকায় যাচ্ছেন না দীর্ঘদিন। কেউ কেউ বয়সের ভারে নুয়ে পরেছেন। আগামী নির্বাচন নিজেরাই করবেন না। এরকম ১০০ জন প্রার্থীকে আগামী নির্বাচনে দেখা যাবে না।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৭৭টি নির্বাচনী এলাকার বর্তমান এমপিদের শেষ সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। এই সমস্ত এমপিরা এলাকায় যেমন অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নানারকম টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য ইত্যাদি অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশি কোনো কোনো এমপিদের দলীয় গ্রুফিং, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দেয়া, দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করা ইত্যাদি অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্ত প্রার্থীদেরকে হলুদ সতর্কবার্তা বা শেষ সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ এই সমস্ত প্রার্থীরা যদি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের এলাকায় অবস্থান উন্নত করতে না পারেন তাহলে তারা আগামীতে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। অর্থাৎ এরকম অবস্থা যদি সত্যি হয় শেষ পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পরিবর্তন করবে।

তবে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা বলছেন, শেষ পর্যন্ত হয়তো ২০০ আসনের প্রার্থী পরিবর্তন করা সম্ভব নাও হতে পারে। আওয়ামী লীগ হয়তো ১০০ থেকে ১৫০ জন আসনের প্রার্থী পরিবর্তন করবে।

তবে আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের চমক দেখাবেন এবং তিনি যার বিরুদ্ধে ন্যূনতম বিতর্ক রয়েছে তাকে তিনি বাদ দিবেন।

কারণ আওয়ামী লীগ জানে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে একটি ক্লিন ইমেজ নিয়ে দাঁড়াতে হবে। কারণ এই নির্বাচন অন্য যেকোনো নির্বাচনগুলোর চেয়ে আলাদা হবে এবং এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প আওয়ামী লীগের সামনে নাই।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সারাদেশে মাঠ জরিপ করা হচ্ছে এবং এই মাঠ জরিপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা চূড়ান্ত করবে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী আজ তার সংবাদ সন্মেলনেও প্রাথীতা বাছাইয়ে জরিপের কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মাঠ জরিপের মাধ্যমে প্রার্থীদের অতীত, বর্তমান যাচাই একটি চলমান প্রক্রিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *